মানুষ বার বার পরিবারতন্ত্র দেখতে চায়না, নতুনত্ব দেখতে চায়–এডভোকেট শেখ শওকত হোসেন ফরহাদ

0
329

স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী এডভোকেট শেখ শওকত হোসেন ফরহাদ বলেছেন, পরিবারতন্ত্র বলে যদি কিছু থেকে থাকে সেটি সাভার-আশুলিয়ায় আছে। মানুষ বার বার পরিবারতন্ত্র দেখতে চায়না। সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুকে ইঙ্গিত করে বলেন, সে দুই বার এমপি ছিলো, তার ভাই চেয়ারম্যান ছিলো, তার বোন জামাই চেয়ারম্যান ছিলো। এরকম একটি পরিবারতন্ত্র আবার ফেরত আসুক এটা সাভার-আশুলিয়ার মানুষ চাচ্ছেনা। সেক্ষেত্রে নতুনত্ব মানুষ দেখতে চায়।
শওকত হোসেন ফরহাদ আরও বলেন, যেহেতু তিনি দুই দুইবার সংসদ সদস্য ছিলো এবং একজন চিকিৎসক, সেই হিসেবে সাভার-আশুলিয়ায় অন্তত তার একটি হাসপাতাল করা উচিত ছিলো, কিন্তু সেটা আমাদের ভাগ্যে জুটেনি। সাভার-আশুলিয়ায় প্রায় ৩০ লক্ষ লোকের বসবাস হলেও আশুলিয়া এলাকায় একটি সরকারী হাসপাতাল নাই। এখানে একজন শ্রমিক যদি দূর্ঘটনার শিকার হয়, সাধারন পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হলে তাকে হাসপাতালে নিতে নিতে মারা যাবে। বিশাল জনগোষ্ঠির একটি শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার উপর কোন গুরুত্ব নাই, এটা খুবই দুঃখজনক।
তিনি বলেন, আমি মনে করি যে গত ৫ আগষ্টের পর যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, শ্রমিকদের অনেক ত্যাগের বিনিময়ে কিন্তু আমরা এই স্বাধীনতাটুকু পেয়েছি, এখন অনেকেই মনে করছেন যে আমরা এমপি হয়ে বসে আছি বা এই এমপি হওয়ার পিছনে আমাদের কত রক্ত, কত শ্রম, কত ঘাম ঝড়েছে সেটা তারা অনেকেই ভুলে গেছেন। আমি মনে করি সাভার-আশুলিয়ার মানুষ যদি এটা মনে রাখে আসলে কাদের শ্রমের ঘামে এই দ্বিতীয় স্বাধীনতা এসেছে তাহলে আমি মনে করি যে, বড় দল হলেই তার জনসম্পৃক্ততা বেশী থাকবে সেটা আমি মনে করিনা। সেক্ষেত্রে আমি নতুন হলেও এবং নতুন দল হলেও আমরা মনে করি আমরা জনগনের ভালো একটা সাপোর্ট পাবো ইনশাআল্লাহ।
শওতক হোসেন ফরহাদ বলেন, আমার নির্বাচনী ইসতিহারে বেশী প্রাধান্য দিবো শ্রমিক অধ্যুষিত সাভার-আশুলিয়ার শ্রমিকদের বিষয়ে। তাদের বিভিন্ন দাবি পুরন করা অতি জরুরী, যেমন বেতন কাঠামো নিয়ে শ্রমিকদের দাবি আছে, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা। শীতকালে এখনও আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, সড়কে পানি জমে আছে যা নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার।
গার্মেন্টস থেকে যেসব ঝুট বের হয় সেগুলো দিয়ে যদি শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে তহবিল তৈরী করে শ্রমিকদের কল্যানে ব্যবহার করা হয় তাহলে কিন্তু এই ঝুটের টাকা দিয়েই বড় একটি হাসপাতাল নির্মান করা সম্ভব এবং শমিকদের জন্য ভসিষ্যত তহবিল করা সম্ভব। এছাড়া শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য প্রতিটি কারখানার ভিতরে যদি একটা অর্ধেক মূল্যের দোকান করে দেয়া যায় যেখান থেকে শ্রমিকরা অর্ধেক মূল্যে প্রয়োজনীয় বাজার করতে পারবে সেগুলোও এই ঝুটের টাকা দিয়েই করা সম্ভব।
কিন্তু ঝুট বাণিজ্য করার জন্য সাভার-আশুলিয়ার অনেক নেতা হাজার কোটি টাকা দিয়ে নমিনেশন কিনে আনে। যাতে করে এই ঝুটের ব্যবসা করে হাজার হাজার কোটি টাকা কামাতে পারে। শিল্প কারখানার ব্যবসাগুলো আমরা রাজনীতি বিদদের কাছ থেকে আলাদা করতে পারি, যে এখানে কোন রাজনীতিবিদরা ব্যবসা করতে পারবেনা, এই সুযোগ থাকবেনা, তখন ভালো ভালো লোকেরা রাজনীতিতে আসবে যে, ব্যবসাতো রাজনীতিতে নাই, খারাপ মানুষগুলো চলে যাবে, ভালো মানুষগুলো রাজনীতে যুক্ত হবে । আমাদের ইশতিহারে থাকবে যে ঝুট ব্যবসা রাজনীতিতে থাকবেনা।
এরপর নারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিসহ তাদেরকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। সংখ্যালঘুর উপর নির্যাতন বন্ধ এবং তাদের জমিজমা দখল যাতে কেউ না করতে পারে, তাদের স্বার্থ যাতে ক্ষুন্ন না হয় সেইদিকেও আমরা লক্ষ্য রাখবো।
সাভার-আশুলিয়ার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে এবং হকারদের ব্যবসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হবে কিন্তু ফুটপাতে বসতে দেয়া হবেনা। ফুটপাত দখলের কারনে রাস্তায় যানজট বেড়ে গেছে। আজকে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে চাঁদা নিয়ে অনেক দলীয় নেতাকর্মীরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। এসব ফুটপাত বন্ধ করা গেলে একদিকে মানুষের সময় বাঁচবে অন্যদিকে জনগণ ভালো সুবিধা পাবে।

বাস্তবমূখী শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বই-পুস্তক পড়ে ডিগ্রী অর্জন করে বেকারত্ব বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু কারিগরী শিক্ষার উপর জোর দেয়া হচ্ছেনা। আমরা যদি বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার নির্মান করে বাস্তবমূখি শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয় তাহলে তারা বিভিন্ন জায়গায় চাকুরী পাবে।

পরিবেশের দিকে কারো কোন নজর নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাভার-আশুলিয়ায় নদীগুলো দখল এবং দুষনে বিপর্যস্ত। প্রতিনিয়ত নদীগুলোতে কলকারখানার দুষিত বর্জ্য ফেলা হলেও কারো কোন নজর নাই। এছাড়া কৃষি জমির উপর শিল্প বর্জ্য এবং দুষিত পানি ছেড়ে দেয়ায় কৃষি জমিগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নদী দুষণের কারনে যারা মৎসজীবি রয়েছে তাদের খুব খারাপ অবস্থা চলছে, নদীতে কোন মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। বেশীরভাগ কারখানায় ইটিপি প্লান্ট নাই।
চাঁদাবাজ মুক্ত এবং মাদক মুক্ত সমাজ গড়ে তোলার জন্য কাজ করার কথা জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা দেখতে পাই মাঝে মধ্যে পুলিশ মাদক যারা সেবন করে শুধু তাদেরকে ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু যারা বিক্রী করে বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী যাদের শেল্টারে মাদক ব্যবসা চলে তাদেরকে ধরা হচ্ছেনা। আমি নির্বাচিত হলে মাদকের যারা মাস্টার মাইন্ড রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবো। সেখানে যদি আমার দলের কোন নেতাকর্মী মাদকের সাথে যুক্ত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কোন অবস্থাতেই যুব সমাজকে ধ্বংস হতে দিবোনা।
বেকার এবং হতাশা থেকে কিশোর গ্যাং এর সৃষ্টি হচ্ছে। তাদেরকে যদি কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া যায় তাহলে কিন্তু কিশোর গ্যাং হবেনা।
গাছ লাগানো, মানবাধিকার সংঠন এবং সাংবাদিকদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য সুযোগ করে দেয়ার বিষয়টি আমার নির্বাচনী ইশতিহারে রয়েছে। এই কাজগুলো যদি আমরা সঠিকভাবে করতে পারি তাহলেই সাভার হবে একটি টেকসই সাভার এবং সুন্দর সাভার।
আমি যেটা মনে করি যে স্বক্ষিত লোক মানেই সুশিক্ষিত। অর্থাৎ বিদ্যার বইয়ের ভিতরেই শুধু বিদ্যা থাকেনা, মনুষত্ব মানুষের নিজের ভিতরে বিদ্যা যেটা স্বশিক্ষা সেটার অনেক মূল্যায়ন আছে। তা না হলে লালন ফকির কিংবা কাজী নজরুল ইসলামের মতো মানুষের একটি কথা, একটি গান বা একটি কবিতা রিসার্চ হতোনা, যারা পিএইচডি করে তারা এসব বিশ্লেষন করে শেষ করতে পারেনা।
প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি এবং জনগণের ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। মানুষ তরুনদেরকে নতুনদেরকে দেখতে চাচ্ছে। নতুনদের যে ত্যাগটুকু সেটি বিবেচনা করছে এবং সকলেই বলছে যে আমরা আপনাকে দেখে খুশি হয়েছি এবং আমরা আপনাকে দোয়া করছি। তাই জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
পুরানদের কাছ থেকে মানুষ কি পেয়েছে। আমাদের জিরাবো পোস্ট অফিস লিখা হলেও কোন পোষ্ট অফিস নাই। এখানকার যে পোস্ট মাস্টার ছিলো আনন্দ সে বলে গেছিলো আমাদের ডিজি সাহেব বলেছে যে এখানে এক খন্ড জমি দেন আপনারা। দুই দুইবারের এমপি থাকা সত্বেও দুই শতাংশ জমি যদি তিনি বরাদ্দ দিয়ে যেতো তাহেল এখানে একটি পোস্ট অফিস থাকতো। কিন্তু পোষ্ট অফিস আমরা জিরাবো লিখি সেটা পোস্ট করতে হয় নরসিংহপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে। এক টুকরো দিয়ে একটি পোস্ট অফিস করতে পারেনাই, একটি হাসপাতাল করতে পারেনাই, মানুষ দেখেছে তাকে সেক্ষেত্রে আমরা বলতে চাই অহঙ্কারের মাত্রা মানুষের বেশী হয়ে গেলে তখন মানুষ চোখে দেখা যায়না। আমি জিরাবোর সন্তান হলেও উনি আমাকে চিনেনা। আমি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবি। তবে সে চিনেনা এজন্য আমি দোষ মনে করিনা কারন সে এলাকায় ছিলোনা, বেশীরভাগ সময় বিদেশেই ছিলো, এদেশের মানুষের সাথে তার যোগাযোগ কম। কারন জিরাবো গ্রামে আমি একমাত্র আইনজীবি, এখানে সুপ্রিম কোর্টের আর কোন আইনজীবি নাই। সে আমাকে চিনেনা এটা আমার ব্যার্থতা নাকি তার ব্যার্থতা জানিনা। তবে এলাকার মানুষ আমাকে ভালোভাবে চিনে, তারা আমাকে অনেক ভালোবাসে, তাদের সুখে-দুঃখে থাকি। তাই আমি মনে করি জিরাবো গ্রামের মানুষসহ আশপাশের ইয়ারপুর, ধামসোনা, পাথালিয়া, শিমুলিয়ার মানুষের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তারা আমাকে চিনে এবং ভালো ভাবে নিচ্ছে। আমি তো চলে যাবোনা, তার একটি সেকেন্ড হোম আছে আমেরিকাতে, কিন্ত আমারতো সেকেন্ড কোন হোম নাই। মরি বাঁচি যাই করি আমি জনগনকে সাথে নিয়েই আছি। মরলেও জনগনের পাশে আছি, বাঁচলেও তাদের পাশে আছি, মানুষ এটি বুঝতে পেরেছে। আমি মনে করি অন্তত এই জন্য হলেও আমাকে ভোট দিবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here