স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন ছাত্রদলের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সমর্থকদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ রক্ষা, ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মী এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস আমাদের প্রেরণা যোগায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সংগঠনটি জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। আমরা দৃঢ় প্রত্যয়ে বিশ্বাস করি, ছাত্রদল ভবিষ্যতে আরও দৃঢ়ভাবে দেশের জন্য কাজ করবে।”
মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি আসন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাত্রসমাজের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
স্টাফ রিপোর্টার: সাভার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা ইউনুস খান ইংরেজি নববর্ষ-২০২৫ উপলক্ষে এলাকার সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় ইউনুস খান বলেন, “নতুন বছর আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা ও লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। আমি আশা করি, এই বছর আমাদের সমাজে শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এলাকার সকল নাগরিকের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করছি এবং আমার পক্ষ থেকে সবার জন্য শুভকামনা রইলো।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সাভার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের নাগরিকদের সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করতে চাই। এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করার জন্য আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এজন্য আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
ইউনুস খান তার ওয়ার্ডের নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, “আপনারা সবাই আমার পাশে থাকুন। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন আমাকে সামনের দিনে আপনাদের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ ওয়ার্ড গড়ে তুলি।”
প্রসঙ্গত, ইউনুস খান দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলের জন্য কাজ করে আসছেন। একজন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে তিনি এলাকার জনগণের কাছে পরিচিত। তার এই উদ্যোগ নতুন বছরে এলাকার নাগরিকদের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার: সাভার পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এবং সাভার পৌর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেল ইংরেজি নববর্ষ-২০২৫ উপলক্ষে এলাকার সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাসেল বলেন, “নতুন বছর আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা ও লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। আমি আশা করি, এই বছর আমাদের সমাজে শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এলাকার সকল নাগরিকের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করছি এবং আমার পক্ষ থেকে সবার জন্য শুভকামনা রইলো।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সাভার পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের নাগরিকদের সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করতে চাই। এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করার জন্য আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এজন্য আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
রাশেদুল ইসলাম রাসেল তার ওয়ার্ডের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, “আপনারা সবাই আমার পাশে থাকুন। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন আমাকে সামনের দিনে আপনাদের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ ওয়ার্ড গড়ে তুলি।”
প্রসঙ্গত, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলের জন্য কাজ করে আসছেন। একজন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে তিনি এলাকার জনগণের কাছে পরিচিত। তার এই উদ্যোগ নতুন বছরে এলাকার নাগরিকদের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস)-এর ২০২৫ সেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি পদে বণিক বার্তার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মেহেদী মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্বাচিত হয়েছেন।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. খো. লুৎফুল এলাহী। তার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল রকিব এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইউসুফ হারুন।
সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষে দুপুর ২টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. খো. লুৎফুল এলাহী নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করেন। কার্যনির্বাহী পরিষদের মোট ৯টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগামী এক বছর এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে দৈনিক ইনকিলাবের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বায়েজীদ হাসান রাকিব এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ডিবিসি নিউজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জোবায়ের আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।
জাবিসাসের কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৫-এ দপ্তর ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেইলি অবজারভারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহ্ আলম এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাজিব রায়হান।
এছাড়াও কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন ব্রেকিং নিউজের রাসেল মাহমুদ, জাগো নিউজের সৈকত ইসলাম এবং দ্য নিউজের আশরাফুল মিয়া।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে আসছে। প্রতি বছর সংগঠনটির নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
স্টাফ রিপোর্টার: আশুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মালেককে কিশোরগঞ্জ থেকে এবং কনস্টেবল মুকুলকে নবাবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ও চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পরোয়ানা জারি করেন।
সেই সঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৬ জানুয়ারি দিন ঠিক করা আছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, বিএম সুলতান মাহমুদ, এস এম মইনুল করিম ও শাইখ মাহদী।
পরে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্ট ৬ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার পর পরিকল্পিতভাবে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তখনকার সাভার-আশুলিয়ার সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হয়। এ ছাড়া চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তাদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশে পরীক্ষিত দুটি দেশপ্রেমিক শক্তি আছে, একটা সেনাবাহিনী আরেকটা জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে ভারতের কাছে ইজারা দিয়েছিল। ক্ষমতার জন্য ষড়যন্ত্র করে প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বিডিআরের।’
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় রংপুরের পাগলাপীরে জামায়াত আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। এর আগে উত্তরবঙ্গ সফর উপলক্ষে রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে পেছনের দরজা দিয়ে ২০০৯ সালের ৭ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসে। তার দুই মাস পূরণ না হতেই পরের মাসেই আমরা লক্ষ করলাম, বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় তারা ৫৭ জন সেনা অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করলো। হত্যা করে লাশ ড্রেনে ভাসিয়ে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে পিলখানার চতুর্দিকে রাতের বেলা বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে খুনিদের পালানোর ব্যবস্থা করে দিলো। বিডিআরের লোকদের দফায় দফায় আটক করলো। সাড়ে ১৬ হাজার বিডিআর জাওয়ানকে জেলে নিয়ে গেলো। জেলের ভেতর সাড়ে তিনশর অধিক অফিসার ও সৈনিক মারা গেলো।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার জন্য ষড়যন্ত্র করলো আওয়ামী লীগ, আর জীবন গেলো বিডিআরের। আওয়ামী লীগ একটি ষড়যন্ত্রকারী দল। একটি বাহিনীকে শেষ করে দিলো তারা। সেনাবাহিনীর কোমর ভেঙে দিলো। এরপর জামায়াতে ইসলামীর গায়ে হাত দিলো।’
শফিকুর বলেন, ‘এ দেশে পরীক্ষিত দুটি দেশপ্রেমিক শক্তি আছে, একটা সেনাবাহিনী আরেকটা জামায়াতে ইসলামী। আগেই সেনাবাহিনীর ক্ষতিসাধন করেছে। জামায়াতকে তছনছ করে দিতে পারলে তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। তারা জমিদার হয়ে পড়বে আর দেশের মানুষকে তারা ভাড়াটিয়া বানাবে। এভাবেই ষড়যন্ত্র করেছিল তারা। কিন্তু মালিক বাড়ি ছেড়ে পালায় না। ভাড়া দিতে না পেরে ভাড়াটিয়া পালায়। এখন কে পালিয়েছে, ভাড়াটিয়ারা পালিয়ে গেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ কার্যত এ দেশকে ভারতের কাছে ইজারা দিয়ে রেখেছিল। আমরা এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান চারটি ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করি। হিংসা-বিদ্বেষ নেই বললেই চলে। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই দৃষ্টান্ত পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে আমরা শিখেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ধর্মের ভিত্তিতে সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু হিসেবে এ দেশের মানুষকে আখ্যায়িত করেছে।’
জামায়াত আমির বলেন, ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তারা সংখ্যালঘু বলে যাদের জন্য মায়াকান্না করেছিল তারাই তাদের জায়গা-জমি অন্যায়ভাবে সব দখল করে রেখেছিল। তাদের সম্পদের ওপর হাত দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের ইজ্জতের ওপরেও হাত দিয়েছে। এই সময়ে এসে তারা (আওয়ামী লীগ) মায়াকান্না করে এবং দোষ চাপায় এ দেশের দেশপ্রেমিক মানুষ বিশেষ করে যারা নিষ্ঠাবান মুসলমান তাদের ওপরে।’
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা মাহবুবুর রহমান বেলাল, এ টি এম আযম খান, এনামুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্টাফ রিপোর্টার:সাভার পৌরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ছাত্রনেতা মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেল এর পক্ষে এলাকাবাসীর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২২শে ডিসেম্বর) বিকেলে পৌর এলাকার রাজাশনের পিঁয়ারা বাগান এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর হক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভার পৌর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেল।
এ উঠান বৈঠকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ কয়েকশ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আগামীতে সাভার পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে একজন সৎ ও যোগ্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ ক্রীড়া প্রেমী ত্যাগী নেতা মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেলকে সমর্থন দিতে সকলে মত প্রকাশ করেন।
স্টাফ রিপোর্টার: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তৎকালীন আ.লীগ সরকারের বিরুদ্ধে পোস্ট করলে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট র্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় ধামরাইয়ের রহমত উল্লাহকে। তুলে নেওয়ার ১৬ মাস পর তিনি বাড়ি ফিরলেন বলে অভিযোগ তার এবং তার পরিবারের।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলে রাব্বি সেই রহমত উল্লাহকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
রোববার দুপুরে ধামরাইয়ের নিজ বাড়িতে পৌঁছেন তিনি। ভুক্তভোগী রহমত উল্লাহ ধামরাইয়ের গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বড় নালাই গ্রামের মৃত আবদুর রবের ছেলে।
পরিবার জানায়, ফেসবুকে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে পোস্ট করেছিলেন রহমত উল্লাহ। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট রাত ১২টার দিকে র্যাব পরিচয়ে রহমত উল্লাহকে তুলে নেওয়া হয়।
তুলে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে পরিবারকে জানানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নেওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে র্যাবের মানিকগঞ্জ ক্যাম্পে যোগাযোগ করা হলে রহমতকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি তারা জানে না বলে দাবি করেন।
তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তারা দাবি করেন, ধামরাইয়ে এ ধরনের কোনো অভিযান চালানো হয়নি। তারা সাভার নবীনগর র্যাব ক্যাম্প বা ঢাকায় র্যাবের হেডকোয়ার্টারে খোঁজ নিতে বলেন। এরপর সাভার নবীনগর র্যাব-৪, ঢাকা র্যাব হেডকোয়ার্টার, ডিবি অফিস, ধামরাই থানায় ঘুরেও রহমত উল্লাহর কোনো খোঁজ মেলেনি।
রহমত উল্লাহর বড় ভাই ওবায়দুল্লা বলেন, শনিবার দুপুরের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলে রাব্বি আমাকে কল করেন। তিনি আমার কাছে আমার ভাই রহমত উল্লাহ সম্পর্কে জানতে চান। আমি তাকে আমার ভাইকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি জানাই। তখন তিনি বলেন, আপনার ভাইকে পাওয়া গেছে, আমাদের কাছে আছেন। আপনারা নিয়ে যান।
ওবায়দুল্লা আরও বলেন, আমরা জেনেছি, আমার ভাইকে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। পাসপোর্ট না থাকায় ভারত প্রশাসন ভাইকে ছয় মাসের জেল দেয়। শুক্রবার আমার ভাইসহ মোট ১৪ জনকে ভারতের বিএসএফ একটি নদী পার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি রেল স্টেশনে ১৪ জন বাংলাদেশি আসেন। সেখান থেকে ১৩ জন তাদের বাড়ি চলে যান। আমার ভাই সেখানেই বসে থাকলে স্থানীয়রা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বললে ভাই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যান। সেখান থেকে আমাদের জানানো হয়।
রহমত উল্লাহর মা মমতাজ বেগম বলেন, আমার ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। র্যাব, ডিবি, থানা পুলিশ সব জায়গায় খুঁজেছি। তারা কোন খোঁজ দেয়নি। এমনকি নিখোঁজ ডায়েরি পর্যন্ত নিতে চায়নি থানা পুলিশ। প্রায় দেড়মাস পর নিখোঁজ ডায়েরি নেয়। তখন কিছু বলার ছিল না। শুধু আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছিলাম। আজ আমার বাবা ফিরে এসেছে, আমি আজ অনেক খুশি।
ভুক্তভোগী রহমত উল্লাহ বলেন, র্যাব পরিচয়ে আমাকে গাড়িতে তোলা হয়। এর পরপরই কালো কাপড় দিয়ে আমার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। বাড়ি থেকে বের করার পর কখন কোথায় নিয়ে যায়, কিছুই বলতে পারব না। আমাকে বাংলাদেশে কয়েক মাস রাখার পর ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই এতদিন ছিলাম। আমার তেমন কিছুই মনে পড়ছে না।
গোমস্তাপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) খায়রুল বাসার বলেন, গত শনিবার রহমত উল্লাহ রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। এরপর রহমত উল্লাহ তার পরিচয় দিয়ে এক বছর চার মাস আগে গুম হওয়ার বিষয়টি জানান। তাকে র্যাব পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর একদিন তিনি ঘুম থেকে উঠে দেখেন তিনি ভারতের কোনো এক জায়গায় অবস্থান করছেন। বিনা পাসপোর্টে ভারতে যাওয়ায় তাকে ওই দেশের পুলিশ আটক করে জেল হাজতে পাঠায়।
তিনি বলেন, গত শনিবার রহমত উল্লাহসহ ১৪ জনকে একটি নদী পার করে দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ। পরে সে প্রায় সাত কিলোমিটার হেঁটে মানুষদের কাছে জিজ্ঞেস করে রহনপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে এসে আশ্রয় নেন। পরে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন, রহমত উল্লাহকে দেখে অস্বাভাবিক মনে হয়। তিনি কারও সঙ্গে তেমন কোনো কথা বলেননি।
সাভার প্রতিনিধি: প্রয়োজনে জীবন দেব তবুও জমি দেব না, আদালতের বৈষম্য মূলক রায় মানি না মানবো না, এই স্লোগানে ভুক্তভোগী বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছে।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে সাভারের বলিয়ারপুর মধুমতি মডেল টাউনের প্রায় চার হাজার বাসিন্দারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে এই মানববন্ধন করেছে। এ সময় তারা জানান, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ জমি ক্রয় করে এখানে বসবাস করছি, জমির কাগজপত্র সকল কিছু ঠিকঠাক থাকার পরেও আমরা জমির খাজনা পরিশোধ ও মিউটেশন করতে পারতেছি না, আমাদের গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, বেলা ও রাজউকের সমন্নয়ে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আমাদেরকে উৎখাত করার চেষ্টা করছে, আমরা প্রয়োজনে জীবন দেব তবুও আমরা আমাদের এই জমিটি ছাড়তে পারবো না।
এ বিষয়ে হারুনুর রশিদ নামে এক বাসিন্দা জানায়, আমি দীর্ঘ কয়েক বছর দেশের বাইরে কাজ করে অনেক ডলার বাংলাদেশে পাঠিয়েছি, আজকে আমি একজন প্রবাসী আমার বাড়িঘর উৎখাত করা হবে, রোহিঙ্গারা এ দেশে বসবাস করছে, আমরা কি দোষ করলাম, আমাদের একটাই দাবি বৈষম্য মূলক রায় বাতিল করে আমাদের নাগরিক সকল সুবিধা প্রদান করা হোক। অন্যথায় আমরা সকলে আরো কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের শেষ সম্বল রক্ষা করতে জীবন দিয়ে হলেও চেষ্টা করব।
মধুমতি হাউজিং সোসাটির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি আমাদের সকল সঞ্চয় এখানে রয়েছে, এখন আদালত বৈষম্যমূলক রায়ের মাধ্যমে আমাদের এখান থেকে উৎখাত করার ব্যবস্থা করেছে। তারা বলছে এখানে বাড়িঘর ও স্থাপনা নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ভুল, তারা আশেপাশে অন্যান্য হাউজিংয়ের সকল কার্যক্রমের বৈধতা দিলেও আমাদের অবৈধ বলে ঘোষণা করার চেষ্টা করছে,আমরা অবিলম্বে এই রায়ের পরিবর্তন চাই অন্যথায় আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
স্টাফ রিপোর্টার: সাভারের আশুলিয়ায় রাস্তা পারাপারের সময় ক্রাউন সিমেন্টের একটি কাভার্ডভ্যানের চাপায় রোকেয়া আক্তার (৩৭) নামে এক নারী নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় র্যাব ক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রোকেয়া আক্তার (৩৭) ঢাকার ধামরাইয়ের সুতিপাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানায়, সকালে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক পারাপারের সময় ক্রাউন সিমেন্টের একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্টো-উ- ১১-৩১১২) তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিরিবিলি এলাকার কাজী অফিসের সহকারী ফেরদৌস ওরফে ফিরোজ বলেন, সকাল ৯টার দিকে ওই নারী আমাদের কাজী অফিসে আসেন বিয়ের খরচের বিষয়ে আলোচনা করতে। পরে আলোচনা করে বের হয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন যে, তিনি ধামরাইয়ের দিকে যাবেন। কিন্তু রাস্তা কেন পার হতে গেলেন আমি জানি না। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে বাহিরে গিয়ে দেখি উনি মারা গেছেন। পরে পুলিশ এসে তার লাশ নিয়ে যায়।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের স্বজনরা থানায় এসেছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান। ঘটনার সাথে জড়িত কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। তবে এর চালক পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি।