সাভারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা শেখ সাঈদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ। বিশেষ অভিযান পরিচালকনা করে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার পৌর এলাকার বাজার রোডের একটি ভাড়া বাসা থেকে শেখ সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি টয়লেটে লুকিয়ে ছিলেন।
ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, শেখ সাঈদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায় ছয়টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে লেগুনায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার ভোরে তাকে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয় বলেও জানান গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা জানান, যুবলীগ নেতা শেখ সাঈদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করে দুপুরে ঢাকার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ককটেল ফাটিয়ে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হয়েছে। এ সময় ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে দোকান মালিক দিলীপ দাস (৫০) নিহত হয়েছেন।
রোববার (০৯ মার্চ) রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকায় দিলীপ স্বর্ণালয় নামে একটি স্বর্ণের দোকানে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
নিহত দিলীপ আশুলিয়ার গোপীনাথপুর এলাকার মৃত দুলাল দাসের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্বপ্না বেগম বলেন, রাতে তারাবির নামাজের সময় বাজারের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ ছিল। তখন আমি বাজার ঝাড়ু দিচ্ছিলাম। এ সময় স্বর্ণের দোকানদার দিলীপ তার দোকান বন্ধ করছিলেন। পাশেই তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ চারজন লোক অস্ত্র হাতে দ্রুত দোকানের দিকে এগিয়ে এসে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তখন ওই দোকানের সামনে ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়।
তিনি বলেন, পরে চারজন দুর্বৃত্ত দিলীপকে সামনে ও পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এসময় দোকান মালিকের স্ত্রীর হাতে থাকা একটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দোকান মালিককে উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও লুট হওয়া জিনিসপত্রের পরিমাণ জানাতে পারেননি।
আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, ককটেল ফাটিয়ে ও দোকান মালিককে কুপিয়ে একটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তবে কী পরিমাণ স্বর্ণ বা টাকা লুট হয়েছে জানা যায়নি। তদন্ত করে বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।
সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেরাজুর রেহান পাভেল বলেন, রাতে দিলীপ নামে এক রোগীকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালের এমারজেন্সিতে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর শরীরে রক্তাক্ত জখম ছিল। পরে চিকিৎসা দেওয়ার সময়েই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্টাফ রিপোর্টার: সাভারে ইতি খানম (৩৮) নামে এক নারী পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলার ঘটনায় সোহেল নামের এক ড্রাইভারকে আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
রোববার (৯মার্চ) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইতি খানম কালিয়াকৈর থানায় পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনি সাভার থানার ভেতরে কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।
সাভার মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কনস্টেবল ইতি খানম নিজ কর্মস্থলে রিকশা যোগে যাচ্ছিলেন। এ সময় লোহার রড হাতে সাভার পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানউল্লাহর গাড়ি চালক সোহেল বাবু এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।পরে মারধরের একপর্যায়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় ইতিকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসামি সোহেল বাবু সাভার উপজেলা আওয়ামী মৎসজীবী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলো। আগস্ট বিপ্লবের পর গা-বাঁচাতে স্থানীয় বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় চলে আসে।
গোপন সূত্রে জানা যায়,পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানউল্লাহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীদেরকে সাথে নিয়ে পুলিশ কনস্টেবলের সাথে ড্রাইভার সোহেলের আপস করাতে থানায় যায়। আপস করতে ব্যর্থ হয়ে মাথায় সমস্যা আছে বলে মাফ চেয়েও ছাড়াতে পারে নি ড্রাইভার সোহেলকে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, ওর মাথায় সমস্যা থাকলে,ওকে দিয়ে ড্রাইভিং করানো তো রিস্ক। ওর পিছনে বসে থাকাটাওতো নিরাপদ না। ওর সমস্যা থাকলে ওকে কেনো এখনো ড্রাইভার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রেখেছে।ওকেতো অনেক আগেই বাদ দিয়ে দিতো,তানা করে ওর পিছনে বসে নিরাপত্তা পায় কিভাবে? মাথার সমস্যার কথা বলে বাঁচানোর ব্যর্থ নাটক ছিলো!
এ বিষয়ে পুলিশ কনস্টেবল ইতি খানম জানান, “আমার ডিউটি চলে কালিয়াকৈর থানায়। আমার প্রতিবন্ধী বাচ্চাকে রেখে আসতে দেরি হওয়ায় রাস্তায় জ্যামে পড়ি, নারী ও শিশু ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে ডিউটি চলে, তাই রিকশা চালককে দ্রুত এক পাশ দিয়ে যাইতে বলি। এসময় সোহেল নামের ওই ড্রাইভারকে অনুরোধ করে বলি, ভাই আমার ডিউটি চলে, আমাকে একটু যাইতে দেন, আমি পুলিশের লোক। এ কথা বলার সাথে সাথে আমাকে বলে- তুই পুলিশের লোক! তোর পুলিশের মাইরে! বলেই আমাকে মারতে শুরু করছে, রড দিয়ে মারতে শুরু করছে। আমি লাঠি ধরছি, একবার লাঠি পরে গেছে তারপর ওই লাঠি উঠায়ে আবারও আমাকে রিকশায় বসা অবস্থায় সমানে পিটানো শুরু করছে। এক্সরে করছি, আমার পুরা পা ফ্যাক্সার হয়ে গেছে। এ বিষয় আমি সাভার থানায় অভিযোগ করেছি।
এ বিষয় জানতে সাভার পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানউল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিঞা এ প্রতিবেদকে বলেন, ওই নারী কনস্টেবল কালিয়াকৈর থানায় কর্মরত রয়েছে। সাভারের থানা রোডে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা আসামিকে আটক করেছি, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: সাভারে ইতি খানম (৩৮) নামে এক নারী পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৯মার্চ) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইতি খানম কালিয়াকৈর থানায় পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনি সাভার থানার ভেতরে কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।
সাভার মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কনস্টেবল ইতি খানম নিজ কর্মস্থলে রিকশা যোগে যাচ্ছিলেন। এ সময় লোহার রড হাতে সাভার পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানউল্লাহর ড্রাইভার সোহেল বাবু এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।পরে মারধরের একপর্যায়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় ইতিকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ কনস্টেবল ইতি খানম জানান, “আমার ডিউটি চলে কালিয়াকৈর থানায়। আমার প্রতিবন্ধী বাচ্চাকে রেখে আসতে দেরি হওয়ায় রাস্তায় জ্যামে পড়ি, নারী ও শিশু ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে ডিউটি চলে, তাই রিকশা চালককে দ্রুত এক পাশ দিয়ে যাইতে বলি। এসময় সোহেল নামের ওই ড্রাইভারকে অনুরোধ করে বলি, ভাই আমার ডিউটি চলে, আমাকে একটু যাইতে দেন, আমি পুলিশের লোক। এ কথা বলার সাথে সাথে আমাকে বলে- তুই পুলিশের লোক! তোর পুলিশের মাইরে! বলেই আমাকে মারতে শুরু করছে, রড দিয়ে মারতে শুরু করছে। আমি লাঠি ধরছি, একবার লাঠি পরে গেছে তারপর ওই লাঠি উঠায়ে আবারও আমাকে রিকশায় বসা অবস্থায় সমানে পিটানো শুরু করছে। এক্সরে করছি, আমার পুরা পা ফ্যাক্সার হয়ে গেছে। এ বিষয় আমি সাভার থানায় অভিযোগ করেছি।
এ বিষয় জানতে সাভার পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানউল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিঞা এ প্রতিবেদকে বলেন, ওই নারী কনস্টেবল কালিয়াকৈর থানায় কর্মরত রয়েছে। সাভারের থানা রোডে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।
স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি অফিসের পিয়ন পরিচয়ে আশুলিয়া থানার ভিতরে ঢুকে ওসির সাথে অসদাচরণকারী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই যুবকের নাম সুমন মিয়া।
বুধবার (৫ মার্চ) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার সুমন মিয়া চাঁদপুরের শাহরাস্তি থানার চান্দাইল এলাকার মৃত আব্দুর রবের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, বিএনপি অফিসের পিয়ন পরিচয়ে আশুলিয়া থানার ভিতরে ওসির সামনে অসদাচরণ করার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চাঁদপুরের শাহরাস্তি এলাকা থেকে অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়া থানায় গিয়ে ওসি মোহাম্মদ মনিরুল হক ডাবলুকে ‘ছাত্রলীগের ওসি’ বলে বিব্রত করার চেষ্টা করে সুমন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি অফিস থেকে তাকে ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসির সাথে কথা বলেছেন এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার: সাভার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির যুব বিষয় সম্পাদক নাজমুল ইসলাম রুবেল একজন সাহসী ও সংগ্রামী নেতা হিসেবে পরিচিত। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল, কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে রাজনীতির মাঠে প্রবেশ করেন। যদিও তিনি ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা, তবে সাভারের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ফ্যাসিবাদী দমননীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন রুবেল। তার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। বারবার তাকে মামলার শিকার হতে হয়েছে, এমনকি বেশ কয়েকবার কারাবরণও করেছেন। তবে কোনো প্রতিকূলতাই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
গত বছর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনরত জনতার ওপর পুলিশের গুলি বর্ষণের সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার পায়ে গুলি লাগে। এখনো সেই ক্ষত পুরোপুরি সেরে ওঠেনি, কিন্তু তিনি দমে যাননি। তার এই সংগ্রামী চেতনা ও সাহস সাধারণ জনগণের মধ্যে তাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।
রাজনীতিকে কখনোই নিজের পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি রুবেল। সততা ও নৈতিকতার আদর্শে অবিচল থেকে তিনি বিশ্বাস করেন, “রাজনীতি আমার নেশা, পেশা নয়। যারা জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করেন, তাদের উচিত একটি বৈধ পেশা থাকা। আমরা চাই না, আওয়ামী লীগের মতো কেউ রাজনীতিকে ব্যবসায় পরিণত করুক। চাঁদাবাজি, ফিটিংবাজি করে চলুক, এটা আমাদের নীতি নয়।”
অসচ্ছল হলেও অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করতে চান না রুবেল। প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি একটি দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ নিয়েছেন। তার মতে, রাজনীতিকে ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এবং সাধারণ জনগণের আস্থা হারিয়ে যায়।
তার এই নিষ্ঠা ও সততার জন্য এলাকার মানুষ তাকে ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে। তার মতো যুব নেতারা যদি রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও সততার আদর্শ ধরে রাখেন, তাহলে জাতীয়তাবাদী শক্তি আরও সুসংগঠিত হবে এবং রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নাজমুল ইসলাম রুবেলের মতো নেতৃত্বই হতে পারে আগামী দিনের অনুপ্রেরণা।
তাই রুবেলদের মতো সৎ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের যাতে দলীয় ভাবে মূল্যায়ন করা হয় এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার আশুলিয়ায় চাদাঁবাজির বিষয়ে বক্তব্য চাওয়ায় সাব্বির আহম্মেদ নামে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৫ মার্চ) এই ঘটনায় ঢাকার আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই সংবাদকর্মী।
সাংবাদিক সাব্বির আহম্মেদ বর্তমানে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকায় বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসের ৩ তারিখে আল আমিন খান নামের এক শ্রমিকনেতা চাদাঁবাজ মিজানুর রহমানের নামে আশুলিয়া থানায় ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা এবং চাঁদা না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করার বিষয় নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য ভূক্তভোগী আল আমিন সাংবাদিক সাব্বিরের নিকট অভিযোগ এবং ভিডিও বক্তব্য প্রদান করে। এরই প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সাব্বির বিবাদী মিজানের মুঠোফোনে চাদাঁবাজির বিষয়ে তার বক্তব্যর জন্য ফোন করলে সন্ত্রাসী মিজান অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতে থাকে এবং তার চাঁদাবাজির বিষয়ে কোন অনুসন্ধান করলে অথবা সংবাদ প্রকাশ করলে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের দালাল রাশেদ খান মেননের এজেন্ট হিসেবে সে সাভার-আশুলিয়ায় কাজ করে। আওয়ামী লীগের দালাল শ্রমিক নেতা মিজান আশুলিয়ার শ্রমিক অসন্তোষের সাথে জড়িত। বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে শ্রমিকদের টাকা আত্মসাৎ করাই তার প্রধান কাজ। কিছুদিন আগেই বাডস গ্রুপের শ্রমিকদের প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াকে প্রায় অচল করে পালিয়ে যায়। একটু স্বাভাবিক হতেই আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই মিজান। তার কাছে অভিযোগ করে অনেক নারী শ্রমিক লাঞ্চিতসহ ধর্ষণ চেষ্টারও শিকার হয়েছে। লোক লজ্জার ভয়ে মুখ খোলেনি অনেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক নেতা জানান, কিছুদিন আগে বাডস গ্রুপের কারখানার শ্রমিকদের টাকা আত্মসাৎ করে এই চক্রটি তাদের মধ্যে সেই টাকা ভাগাভাগি নিয়েই এই অভিযোগ বা ঝামেলার সৃস্টি হয়েছে। কারন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কারখানা থেকে টাকা আত্মসাৎ এর রিসিট ভাইরাল হওয়ার পর তারা গাঢাকা দেয়। এছাড়াও এই চক্রটি বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করে থাকে। তাদের দ্রত আইনের আওতায় না আনা হলে শিল্পাঞ্চলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সাভার-আশুলিয়ায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদ কর্মীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন । সেই সাথে এই সন্ত্রাসীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শ্রমিক নেতার সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ আল মামুন বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সাভার প্রতিনিধি: সাভারে সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টার পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই আসামির দায়েরকৃত মিথ্যা কাউন্টার মামলা থেকে দুই সাংবাদিককে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। মামলা থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন সাভারে কর্মরত সাংবাদিক সোহেল রানা ও জাহিন সিংহ।
রোববার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম ইসরাত জাহান মুন্নি এই আদেশ দেন। বিবাদিদের পক্ষে শুনানি করেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী আল-মামুন রাসেল।
আইনজীবী আল মামুন রাসেল বলেন, সোহেল রানা ও জাহিন সিংহ’র বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের পক্ষে কোন তথ্য প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে না পারায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শামীমের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় বিবাদিদের অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। স্বৈরাচার সরকারের আমলে সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করতে চাপিয়ে দেয়া মিথ্যা মামলায় কোন ধরনের দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই তদন্ত কর্মকর্তা এক তরফা রিপোর্ট প্রদান করেন। শুধুমাত্র সংবাদ প্রকাশের কারণেই দুই সাংবাদিককে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়। শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আজ দুইজনকেই অব্যাহতি প্রদান করলেন। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
এর আগে, ২০২২ সালের ৯ আগস্ট রাতে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকার এক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটসহ নারীদের শ্লীলতাহানীর অভিযোগে পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শফিউল আলম সোহাগসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তৎকালীন আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিবেদক জাহিন সিংহ ও তৃতীয় মাত্রার প্রতিবেদক সোহেল রানাকে সংবাদ প্রকাশ না করতে হুমকি দেন গ্রেপ্তার ইউপি সদস্যের ভাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক থানা সভাপতি সামিউল আলম শামীম ওরফে এসএ শামীম।
তবে পুলিশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটির সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে দুই সাংবাদিকের বিকৃত ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হুমকি ও অপপ্রচার শুরু করেন শামীম ও তার অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে ১৩ আগস্ট সকালে উপজেলা পরিষদে মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা। অপপ্রচার ও হুমকির ঘটনায় সেদিন রাতেই সাভার মডেল থানায় জিডি করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহেল রানা।
তবে ঘটনার পর দিন ১৪ আগস্ট দুপুরে সাভার উপজেলা পরিষদের ভিতরে প্রকাশ্যেই সাংবাদিক সোহেল রানার ওপর হামলা চালায় শামীমের লোকজন। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ সোহেলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানাস্তর করা হয়। ১৫ আগস্ট শামীমকে প্রধান আসামি করে ২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০ জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন হামলার শিকার সাংবাদিকের মামা আশরাফুল ইসলাম।
হাসপাতালে ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেই সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টার ঘটনা আড়াল করতে ১৭ আগস্ট হামলার শিকার সোহেল রানা ও তার সহকর্মী জাহিন সিংহ’র বিরুদ্ধে আদালতে একটি কাউন্টার মামলা করেন হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রধান আসামি সামিউল আলম শামীম।
উল্লেখ্য, একসময় এলাকায় অনেকটা প্রকাশ্যেই মাদক ব্যবসা করলেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে চাঁদাবাজির টাকায় রাতারাতি বিপুল অর্থবৃত্তের মালিক বনে যান শামীম। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে গুলি চালাতে দেখা যায় শামীমকে। তার বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যার ২৩টি মামলা ছাড়াও চুরি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি’সহ আরো এক ডজন মামলা রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার: সাভার বাসস্ট্যান্ড ও ওভারব্রিজসহ ফুটপাতের ভাসমান দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। হকার্স নেতাদের দাবি, এই টাকা পুলিশকে ম্যানেজ করার জন্য নেওয়া হচ্ছে, যাতে উচ্ছেদ অভিযান ঠেকানো যায়। তবে হকারদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—যদি কেউ এ বিষয়ে মুখ খোলে, তবে তার দোকান উচ্ছেদ করে দেওয়া হবে।
স্থানীয় হকারদের অভিযোগ, এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন সুজা, কালাম ওরফে মোটা কালাম, ইয়ার আলী, সাইদুল, মামুন, জাকির, ফকির চান, টিপু, রশিদসহ আরও কয়েকজন। জানা গেছে, সাভার বাসস্ট্যান্ড ও ওভারব্রিজ এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২’শটি দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে, ফলে মোট চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা!
কয়েকজন হকার জানান, “আমরা অনেক কষ্ট করে আয় করি, এত টাকা দেওয়া আমাদের জন্য কঠিন। কিন্তু না দিলে গোপনে হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধের হুমকিসহ ফুটপাতে বসতে দেওয়া হবে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার এ প্রতিবেদকে জানান, আমাদেরকে তিনজনকে ওয়ার্নিং দিয়ে গেছে, আমরা কইছি আমরা মার্কেট মালিকদের পক্ষ থেকে বইছি,আমাদেরকে কইছে মার্কেট মালিকদের কইবেন ১০০০ হাজার করে টাকা দিতে হবে নইলে প্রশাসন বসতে দিবে না।
টাকা উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত একজন দাবি করেন, “যার ইচ্ছা সে টাকা দেবে, বাধ্য করা হচ্ছে না। তবে যারা নির্ধারিত টাকা দেবে না, তাদের বিষয়ে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে। ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলতে হয়। আগেও এমন চলেছে, এখনো একইভাবে চলবে।”
তবে পৌর হকার্স দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সাইদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, আমরা নির্দিষ্ট পরিমাণে কোনো দোকান থেকে টাকা তুলিনি। কোনো দোকান থেকে ১ হাজার, কোনো দোকান থেকে ৫’শ টাকা করে তোলা হয়েছে। তবে ঝামেলা হওয়াতে টাকা হকারদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত এক ব্যক্তি চাঁদা তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আপনি আমার সাথে চলুন, প্রমাণ হবে আমি কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছি কিনা।”
সাধারণ হকারদের দাবি, “টাকা না দিলে রমজান মাসে ফুটপাতে বসতে দেওয়া হবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ম্যানেজ করতে হলে টাকা দিতেই হবে।” এমনটা বলে তাদের থেকেও টাকা উঠানো হচ্ছে।
এছাড়াও তারা জানান, ” হেমায়েতপুর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। আমাদের বলা হয়েছে, যদি টাকা না দেওয়া হয়, তাহলে শিগগিরই সাভার বাসস্ট্যান্ডেও অভিযান চালানো হবে।”
হকারদের দাবি, প্রশাসন এ বিষয়ে জানলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং, অভিযানের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
সাধারণ হকাররা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা নির্ভয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন এবং রমজান মাসে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
সাভার বাসস্ট্যান্ডে হাকার উচ্ছেদ ঠেকাতে সাংবাদিক ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করার জন্য চাঁদা আদায় বিষয়ে সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা বলেন, এই রকম তো হওয়ার কথা না। আগে কখনো সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার কথা বলে টাকা নিয়েছে বলে আমার জানা নাই। তবে যদি কোনো সাংবাদিক এধরণের কাজের সাথে জড়িত থাকে এবং তথ্যপ্রমাণ থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি সাওগাতুল আলম বলেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম। আর আমরা উচ্ছেদ বন্ধ করবো না, উচ্ছেদ অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার: সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিন বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাভার ও আশেপাশের এলাকায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ছাত্রলীগসহ তাদের সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। তবে আলাউদ্দিন মেম্বার তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলাউদ্দিন মেম্বার পূর্বে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে সুবিধা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জরুল রাজিব, ফখরুল আলম সমর, ফারুক হাসান তুহিন, আবু আহমেদ নাসিম পাভেল প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি বিএনপির সাভার থানা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আবুল খায়ের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাসিরুল ইসলাম নাসিম এবং বনগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির অন্যান্য নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করেছেন।
বিএনপি কর্মীদের অভিযোগ, আলাউদ্দিন মেম্বার বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে মিশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তথ্য পাচার করছেন। এছাড়া তার প্রভাব এতটাই যে, তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি বর্তমানে তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস করেন না।
উল্লেখ্য, আলাউদ্দিন মেম্বার পূর্বে যুবলীগের পদধারী নেতা ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে মেলামেশা করছেন বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের মতে,আলাউদ্দিন মেম্বারের এই রাজনৈতিক দ্বৈত ভূমিকা এবং প্রভাবশালী অবস্থান এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আলাউদ্দিন মেম্বারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সাভারের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আলাউদ্দিন মেম্বারের মতো নেতাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা উভয়ই চলছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখবেন।